|

Advertisement
×

সপ্তাহের শুরুতে পতনের ধারাবাহিকতা, ব্যাংক শেয়ারে বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ৫৭ বার পঠিত

সপ্তাহের শুরুতে পতনের ধারাবাহিকতা, ব্যাংক শেয়ারে বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা যেন কাটছেই না। টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই দরপতনের মুখে পড়ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গতকাল রোববারও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমায় সূচকে দেখা দিয়েছে বড় পতন। তবে বাজারের এই নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিল ব্যাংক খাত। সম্ভাব্য বোনাস শেয়ার ইস্যুর গুঞ্জনে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৩২ পয়েন্টে। এদিন লেনদেন হওয়া ৩৫০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৬০টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে অধিকাংশ কোম্পানির দর কমেছে।

পাঁচ সপ্তাহ ধরে একই চিত্র

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ধারাবাহিক দরপতন শেয়ারবাজারের দুর্বল অবস্থারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত পাঁচ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই সূচক কমেছে।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সূচক কমেছিল ৪৫ পয়েন্ট। ৪ অক্টোবর পতন হয় ৪৯ পয়েন্ট। এরপর ১১ অক্টোবর ২৪ পয়েন্ট এবং ১৭ অক্টোবর প্রায় ১৯ পয়েন্ট হারায় ডিএসইএক্স। সর্বশেষ গতকাল রোববারও সূচকের পতন হয়েছে।

ব্যাংক শেয়ারে উত্থান, তবু রক্ষা হয়নি সূচক

বাজারের অধিকাংশ খাতের শেয়ারদর কমলেও ব্যাংক খাতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গতকাল লেনদেন হওয়া ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ১৭টির শেয়ারদর বেড়েছে। চারটির দর কমেছে, যার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক ও সাউথবাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক রয়েছে। বাকি ১০টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

ব্যাংকগুলোর মধ্যে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। প্রাইম ব্যাংকের দর বেড়েছে ৪ শতাংশ। এ ছাড়া মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ও ঢাকা ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি। ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল) ও ইউসিবিসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ারেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল।

ব্যাংক খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধির ফলে সূচকে ইতিবাচক অবদান এলেও অন্য খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন সামগ্রিক বাজারকে নিম্নমুখী রেখেছে।

ব্যাংক শেয়ারে লেনদেন ৯৯ কোটি টাকার বেশি

শুধু শেয়ারদর নয়, ব্যাংক খাতে লেনদেনের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি ছিল। গতকাল ডিএসইতে ব্যাংক খাতের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ৯৯ কোটি ২৯ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসের তুলনায় এই লেনদেন ১৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা কম হলেও মোট লেনদেনের ২৩ শতাংশের বেশি ছিল ব্যাংক খাতের দখলে।

পূজার ছুটির আগে শেষ কার্যদিবস সোমবার ব্যাংক শেয়ারে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১১৫ কোটি টাকার। এর আগের সপ্তাহের দুই কার্যদিবসে এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২৪ কোটি ও ২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক শেয়ারের লেনদেনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

বোনাস শেয়ার ইস্যুর গুঞ্জন

হঠাৎ ব্যাংক শেয়ারের দর ও লেনদেন বাড়ার কারণ হিসেবে সম্ভাব্য বোনাস শেয়ার ইস্যুর গুঞ্জনের কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা।

তাঁদের ভাষ্য, নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধন নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের আলোচনায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুঞ্জীভূত মুনাফা ও চলতি বছরের ভালো আয় থাকা কিছু ব্যাংক পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকে কিছু বিনিয়োগকারী ব্যাংক শেয়ারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

তবে এটি এখনো বাজারে প্রচলিত গুঞ্জন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া বোনাস শেয়ার ইস্যুর বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার চাপ

বাজারের সামগ্রিক দরপতনের পেছনে অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকে দায়ী করছেন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধীরগতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর প্রভাব বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও পড়ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রস্তুতি নিয়ে ধারাবাহিক খবর বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ ধরনের অনিশ্চয়তায় ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা বাড়লে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি, ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের আধিপত্য

ডিএসইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো শেয়ার কেনেননি; শুধু বিক্রি করেছেন। তাঁদের বিক্রি করা শেয়ারের মূল্য ছিল মোট লেনদেনের প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, ব্রোকার ডিলার অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার কেনার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি বিক্রি হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও কেনাবেচার ক্ষেত্রে অসম ছিল। মোট শেয়ার কেনায় তাঁদের অংশ ছিল ৬ শতাংশের কিছু বেশি, আর বিক্রিতে প্রায় ৭ শতাংশ।

সব মিলিয়ে দরপতনের দিনে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল মোট কেনার প্রায় ৯১.৫ শতাংশ এবং মোট বিক্রির প্রায় ৮৪ শতাংশ।

বাজারের এই চিত্রে একদিকে ব্যাংক খাতে বাছাই করা শেয়ারের প্রতি আগ্রহ, অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যাংক শেয়ারের উত্থানও আপাতত বাজারের সার্বিক দুর্বলতা কাটাতে পারছে না।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ১২:২৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com